☺/\☺/
"প্রার্থনায় মন সামলাও, মজলিসে বাক্য সামলাও, ক্রোধে হাত সামলাও, আহারে পেট সামলাও "
۩ ๑۩ ۩ ۩๑ ۩
" কিছু কাজ পৃথিবীতে রেখে যাই এবং সেটাই হবে পৃথীবীতে আসার সার্থকতা"

" নামে মানুষকে বড়ো করেনা, মানুষই নামকে জাকাইয়া তোলে । মন্দ কজ করিলেই মানুষের বদনাম হয়, ভাল কাজ করিলেই মানুষের সুনাম হয় । বাবা কেবল একটা নামই দিতে পারে কিন্তু ভাল নাম কিংবা মন্দ নাম সে নিজেই দেয়"
\☺/ - - -
" মানুষের জ্ঞান যখন পূর্ণতা লাভ করে তখন সে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত হয়"
\☺/
" প্রকৃত সুখ কোথায়? পরকে ফাঁকি দিয়ে নিজের সুখটুকু ভাগ করে নেওয়াতে কি সত্যিকারের সুখ আছে?"
\☺/ ♂♀
"আত্মার সাত্বিক কাছে জড়দেহের ভোগ, সুখের মূল্য কিছুই না যত দিন না মানুষ পরকে সুখ দিতে আনন্দ বোধ করবে ; তত দিন তার যথার্থ কল্যণ নাই "
\☺/ ♥
"যে নিজেকে খুব জ্ঞানী ও বিজ্ঞ মনে করে, খোদার দোহাই সে সবচেয়ে বড় বোকা"
“\☺/”
" ভালো লোকের সাহচার্যে থাক, তোমার বুদ্ধি না থাকলেও তারা সময়মতো ভালো পরামর্শ দেবে "
\☺/ ۞
" মহৎ লোকেরা অন্যকে নিঃশব্দে সাহয্য করেন "
\☺/ ▂ ▃ ▄ ▅
" তোমার আদর্শকে উচুঁ রাখতে চেষ্টা কর । অসহায়কে সাহায্য করে বাহাদুরী প্রকাশ করোনা"
\☺/ ^_^
" যে সাহায্য করে আনন্দ পায়, তাকে না পাওয়ার দুঃখ স্পর্শ করে না "
\☺/ ▌▌
" নিশ্চয় আল্লাহতালা কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না যে পর্যন্ত তাহারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করে"
\☺/ ░
" যার কোন প্রিয় ব্যক্তি মারা যায়, তাকে যে সান্ত্বনা দেয় সে পুন্য অর্জন করে"
\☺/ ╔ ♫ ═╗
" দুষ্কর সাধনা ও তপস্যা ব্যতীত কখনই কোন মহ্ৎ ব্রত উদযাপন করা যায় না"
\☺/ ►
" যখন অবসর পাও, সাধনা কর আর তোমার প্রভুর প্রতি অনুরক্ত হও"
☺/ ☺/ \☺/
" সহনশীলতা এমন একটা গুণ যা থেকে সফলতা আসবেই "
\☺/ (•̮̮̃•̃)
" ফলবান বৃক্ষ আর গুণবান লোক আপনা থেকেই নত হয় শুকনো কাঠ আর মূর্খ ভেঙ্গে দুমড়ে যায় কিন্তু নত হয় না"
\☻/
" যে তার গোপনীয় কথা ভৃত্যকে বলে, সে ভৃত্যকে প্রভুতে রুপান্তরিত করে"
••• \☺/ •••
"যার বাগান গুষ্পরাজিতে পূর্ন এবং গৃহ গ্রন্থরাজিতে পূর্ন, মনের দিক থেকে সে ঐশ্বর্যবান "
\☺/ -----:)
"পাঁচটি ঘটনার পূর্বে পাঁচটি জিনিস মূল্যবান জ্ঞান করিবেঃ তোমর বৃদ্ধ বয়সের পূর্বে তোমার যৌবনকে, ব্যাধির পূর্বে স্বাস্থ্যকে, দ্রারিদ্রোর পূর্বে সচ্চলতাকে, কর্মব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে"
\☺/ ●•٠·
" চরিত্রের মধ্যে যদি সত্যের শিখা দীপ্ত না হয় তবে জ্ঞান, গৌরব, আভিজাতা শক্তি সবই বৃথা"
\☺/ ✖✖
" যখন তোমার কিছু বলার থাকে না তখন চুপথেকো, অহেতুক কিছু বলার চেষ্টা করো না"
\☻/ -------o
" তরুণ ছাত্রদের মধ্যে যদি ছাত্রজীবনের আদর্শবাদ প্রবল না থাকে, তবে পরবর্তী জীবনে সংসারের ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে তারা আদর্শবাদী রইবে এ কল্পনা আরো সুদূর পরাহত । প্রথম দৃষ্টিতে হয়তো মনে হতে পারে যে, এ বিষচক্র ভাঙ্গার উপায় নেই । আদর্শচ্যুতি ঘটে তবে পরবর্তী জীবনে বশ্বাসহীনতা, অনাচার ও সাংসারিক সংকীর্ণ বৃদ্ধি আরো প্রবল হতে বাধ্য"
\☺/ ?
" যা পচে গেছে, যা মরে গেছে তাকে সিল্কের কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখলে লাভ কি ? তাতে আর নবজিবন আসবে না । আজ যাতে জীবন নেই যাতে গেছে জীবনের স্পন্দন তা যেমন নিজেকে চালাতে পারেনা, অপরকেও চালাতে পারে না । তেমন জিনিস যদি আমাদের অতি প্রিয় জিনিসও হয় তাকে কবর দিয়ে আমাদের এগিয়ে চলতে হবে; জীন মানে এগিয়ে চলা"
\☺/ ....•
" যার জীবন মহৎকর্মে পরিপূর্ণ, মৃত্যুর পর তার সমাধিতে মার্বেল পাথরের কারুকর্য না থাকলে কিছু যায় আসে না"
\☺/___$
" আদর্শ হচ্ছে এমনি এক প্রহরী যা মানুষকে সৎপথে চলতে শেখায়"
\☺/ ???
" আদর্শবান লোকদের বন্দুর সংখ্যা কম থাকে"
\☺/ ______
"মিষ্টি ভাবে আদেশ প্রদানের মধ্যেও প্রবল শক্তি নিহিত"
\☺/ ▼▼▼
" শ্রদ্ধা ও স্নেহের অভিনন্দন মন দিয়ে গ্রহণ করতে হয়, তার জবাব দিতে নেই"
++++++
" মিখ্যা বলা যাদের অভ্যাস, তারা নিত্য নতুন বিষয়ের অবতারণা করতে পারে"
☺»☻
" শক্ত কথায় রেশমের মত কোমল অন্তরও পাথরের ন্যায় শক্ত হয়ে যায়"
(^▄ ▄^) » █
" পৃথিবীর কী অদ্ভুত রীতি । শুড়ি দোকন জোঁকে বসে থাকে আর দুনিয়ার লোক তার দাকানে গিয়ে মদ কিনে । ওদিকে দেখ, দুধওয়ালাকে ঘরে ঘরে ধন্না দিয়ে বেচতে হয়"
▂ ▃ ▄ ▅
"শরীরের চেয়ে ইন্দ্রয় বড়, ইন্দ্রেয়ের চেয়ে মন বড়, আবার মনের চেয়ে বুদ্ধি বড় । যিনি বুদ্ধির চেয়েও বড়, তিনিই আত্মা"
\☺/ *****
" কর্তব্যসাধনে ও কথাবার্তায়া যখনই নিজের ত্রুটি দেখিতে পাইবে স্বীকার করিও । উন্নতির পথে আবর্জনা জন্মিতে দিও না"
\☺/ ۩
"আত্মবিস্বাস, আত্মজ্ঞান, আত্মনিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র এই তিনটিতে মানষ রাজকীয় সস্মানের অধিকারী হতে পারে"
\☺/̶͇̿ ̶̶͇͇̿̿ ̶͇̿ ͇̿ ͇̿
" আমরা চলি সমুখ পানে, কে আমাদের বাধবে রইল যারা পিছন টানে কাঁদবে তারা কাঁদবে"
█ \☻/
"নিজের বিপদের কথা শত্রুকে বলো না, সে মুখে দুঃখ প্রকাশ করবে আর অন্তরে উল্লাস বোধ করবে"
♂♀ ♫ ♥ █
" অসুন্দরী স্ত্রী তার ব্যবহার মাধুর্য দ্বারা স্বামীর জিবনকে সার্থক করে তুলতে পারে । অপরদিকে অতিশয় রুপসী স্ত্রী তার সন্দেহ, দুর্ব্যবহার,হৃদয় বিদারক বাক্যবান, অসন্মান, কলহপ্রবণ স্বভাব দ্বারা স্বামীর জীবনকে অতিষ্ঠ ও ব্যর্থ করে দিতে পারে"
█████
"মানুষের সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহার করে যে খোদার সঙ্গে প্রেম করতে যায়, তার বুদ্ধি খুব কম । অন্যায় ও পাপে জাবনকে কলঙ্কিত কর কোন ক্ষতি নেই, আল্লাহকে ডাকলেই সকল পাপ ধুয়ে যাবে । এটা যে মিথ্যা একথা সকলেই বিশ্বাস করো"
☻ ☻ \☺/
" ভাল ব্যবহারের বিনিময়ে ভাল ব্যবহার- ইহার নাম ভাল ব্যবহার নহে । মন্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভাল ব্যবহার - ইহাই ভাল ব্যবহার"
\☺/ ♀
"একজন মহিলার সুন্দর হওয়ার চেয়ে ভালো হওয়াবেশী প্রয়োজন"
\☻/╔══╗
"একটি ফুল দিয়ে কখনো মালা গাঁথা যায় না, তেমনি একটি ভাল কাজ করে জীবকে সুন্দর করা যায় না"
\☺/ ▓ ▓
" হাজার কথার মধ্যে দু'টি কথা কখনো ভুল না- একটি তোমার সৃষ্টিকর্তা এবং অপরটি মৃত্যু"
o » o/ » \o/ » ☺ » ☺/ » \☺/
Showing posts with label ইমাম আবু হানিফা (রহঃ). Show all posts
Showing posts with label ইমাম আবু হানিফা (রহঃ). Show all posts

21.5.10

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বিষ ক্রিয়ায় সিজদায় পড়ে যান এবং সিজদা অবস্থায়ই পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেন

আবার খলিফা মনসুর, ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-কে বাগদাদের খলিফার দরবারে তলব করেন । তিনি খনিফার দরবারে উপস্থিত হলে তাঁকে প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান । কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) জালেম সরকারের অধীনে এ পদ গ্রহন করতে রাজি হলন না । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে একটা মনসুরের গভীর ষড়যন্ত্র । এছাড়া এ পদ গ্রহণ করার অর্থ হবে ন্যায়, ইনসাফ ও ব্যাক্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে জালেমের পুজারী হওয়া । তাই ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) খলিফা মনসুরকে বললেন, "আমি প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করার য়োগ্য নই ।" এতে খলিফা রাগন্বিত স্বরে বললেন, আপনি মিথ্যাবাদী । প্রত্যুত্তরে ইমাম সাহেব বললেন, "আপনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে আমার কথাই সঠিক । কারণ একজন বিথ্যাবাদী রাষ্ট্রের 'প্রধান বিচারপতি' পদের যোগ্য নয় ।"
অতঃপর খলিফা মনসুর কোন উত্তর দিতে না পেরে ক্রুদ্ধ হয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) কে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দী করার নির্দেশ দেন । কারাগারে বসেও ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ফিকাহ শাস্ত্রে তাঁর কঠোর সাধনা চালিয়েছিলেন । কারগারে বসেই তিনি বিভিন্ন কঠিন মাসআলার জবাব দিতেন । বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত মানুষ এসে কারাগারেই মাসআলা শিক্ষা লাভ করে যেতেন । ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) লিখেছেন, ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) কেবল মাত্র কারাগারে বসেই ১২ লক্ষ ৯০ হাজারের অধিক আসআলা লিপিবদ্ধ করেছিলেন ।
এরপর খলিফা মনসুর একদিন খাদ্যের সাথে বিষ মিশিয়ে দেন । ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বিষ ক্রিয়া বুঝতে পেরে সিজদায় পড়ে যান এবং সিজদা অবস্থায়ই তিনি ১৫০ হিজরীতে এ নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেন ।

নির্যাতনের ভয়ে জালিম সরকারের কাছে মাথা নত করেননি

۞۞۞ তিনি কাপড়ের ব্যবসা করে নিজের এবং পরিবারের জীবিকা উপার্জন করতেন । কতিপয় কর্মচারীর দ্বারা ব্যবসা পরিচালনা করতেন । ব্যবসায় যাতে হারাম অর্থ উপার্জিত না হয় সে জন্যে তিনি কর্মচারিদের সব সময় সতর্ক করতেন । একবার তিনি দোকানে কর্মচারীদের কিছু কাপড়ের দোষ-ত্রুটি দেখিয়ে বললেন, "ক্রেতার কাছে যখন এগুলো বিক্রি করবে তখন কাপড়ের এ দোষগুলো দেখিয়ে দিবে এবং-এর মূল্য কম বাখবে ।" কিন্তু পরবর্তীতে কর্মচারীরা ভুলক্রমে ক্রেতাকে কাপড়ের দোষ-ত্রুটি না দেখিয়েই বিক্রি করে দেন । এ কথা তিনি শুনতে পেয়ে খুবই ব্যথিত হয়ে কর্মচারীদের তিরস্কার করেন এবং বিক্রিত কাপড়ের সমুদয় অর্থ সদকা করে দেন ।
তাঁর সততার এ রকম শত শত ঘটনা রয়েছে । তিনি কখনো সরকারি কোন অনুদান গ্রহণ করেননি এবং অবৈধ ক্ষমতা ও অর্থের লোভলালসা তাঁকে কোনদিন স্পর্শ করতে পারেনি । তাই সত্যকে প্রকাশ করতে তিনি কাউকে ভয় করতেন না । ইয়াজিদ ইবনে হুরায়রার আমন্ত্রন পেলেন বিচারপতি পদ গ্রহন করার জন্য কিন্তু প্রত্যাখ্যানই করলেন না বরং সুস্পষ্ট ভাষায় বলেদিয়েছিলেন. "প্রধান বিচারপতির পদ গ্রগণ করাতো দুরের, মোটা অংকের বেতন দিয়ে ইয়াজিদ যদি মসজিদের দরজা জানালাগুলো গুণবার মত হালকা দায়িত্বও দেয়, তথাপি এ জালেম সরকারের অধীনে আমি তা গ্রহণ করব না ।" এতে ইয়াজিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-কে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দী করেন । এরপর কারাগারে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করার জন্যে অনুরোধ জানান । কিন্তু এতেও তিনি রাজী না হওয়ায় কারাগারে প্রতিদিন তাঁকে বেত্রাঘাত করা হত । কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)নির্যাতনের ভয়ে জালিম সরকারের কাছে মাথা নত করেননি । অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি মক্কায় চলে আসেন ।

তিনি আত্মসংযমী মহান চরিত্রবান পরহেজগার উদর দানশীল অতিশয় বিচক্ষণ মুত্তাক্বিন

▒¸.·´*.¸.·´¨*¸.·*¨▒ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) চরিত্র ছিল বহু গুণে গুণান্বিত । তিনি ছিলেন আত্মসংযমী, মহান চরিত্রবান, পরহেজগার, উদর, দানশীল, অতিশয় বিচক্ষণ এবং মুত্তাক্বিন । তিনি ছিলেন, হিংসা, লোভ, ক্রোধ ইত্যাদি থেকে পবিত্র । বিনা প্রয়োজনে কোন কথা বলতেন না । তিনি সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত এশার নামাযের ওজু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতেন । এতে এটাই বুঝা যায় যে, তিনি সারা রাত আল্লাহর ইবাদত ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণায় মগ্ন থাকতেন ।

ফিকাহ শাস্ত্রের উন্নতি

۩۞۩ সুদীর্ঘ ৩০ বছর কাল ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)ও অন্যান্যদের আপ্রাণ চেষ্টা ও সাধনার ফলে ফিকাহ শাস্ত্রের উন্নতি সাধিত হয় । তিনি তাঁর শিক্ষাকতা জীবনে পৃথিবীতে হাজার হাজার মুফাচ্ছির, মুহাদ্দিস ও ফকীহ তৈরি করে গিয়েছেন ।

বর্তমান বিশ্বের প্রায় মুসলমান হানাফী মাজহাবের অনুসারী

·´¯`·.¸_¸.·´¯`·.¸_¸.·´¯`·.¸_¸.·´¯`·.¸_¸.·´¯`·.¸_¸.·´¯`·.¸_¸.» কারো মতে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) তাবেয়ী ছিলেন । তবে তাবে' তাবেয়ী হবার ব্যাপারে কোন মতবিরোধ নেই । ইমাম আবু হানিফ (রহঃ)-এর শিক্ষকরা প্রায় সবাই তাবেয়ী ছিলেন । ফলে হাদিস সংগ্রহের ব্যাপারে তাঁদের মাএ একটি মধ্যস্থতা অবলম্বন করতে হত । তাই তাঁর সংগৃহীত হাদিসসমূহ সম্পূর্ণ ছহীহ বলে প্রমাণীত হয়েছে । তাফসীর ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও পান্ডিত্য থাকা সত্বেও ফিকাহ শাস্ত্রেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি লাভ করেছেন । তিনি কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে বিবিধ বিষয়ে ইসলামী আইনগুলোকে ব্যাপক ও পুঙ্খানপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছেন । বর্তমান বিশ্বের প্রয় মুসলমান হানাফী মাজহাবের অনুসারী ।

শিক্ষকের বাড়ীর দিকে পা মেলে বসেননি

––––•»•(¯`·¤. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ).¤· ´¯) »–––•» হাদিসের অমূল্য রত্ন সংগ্রহ করে স্থীয় জ্ঞান ভান্ডার পূর্ণ করেন । উল্লেখ্য যে, তিনি প্রায় চার সহস্রাধিক আলেমের কাছে শিক্ষা লাভ করেছিলেন ।
ইমাম মালেক (রহঃ)-এর কাছেও তিনি হাদিস শিক্ষা লাভ করেন । ইমাম মালেক (রহঃ)যদিও বয়সের দিক থেকে তাঁর চেয়ে ১৩ বছরের ছোট ছিলেন; তাথাপি ইমাম ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) তাঁকে অশেষ সন্মান করতেন । শিক্ষকদের প্রতি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-এর এত ভক্তি শ্রদ্ধা ছিল যে, তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন, "আমার শিক্ষক ইমাম হাম্মদ (রহঃ) আমি তাঁর বাড়ীর দিকে পা মেলে বসিনি । তিনি বল্লেন, আমার ভয় হতো শিক্ষকের প্রতি আমার বেয়াদবী হয়ে যায় কিনা ।

অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কুরআন হাদিস কিকাহ ইলমে কালাম আদব ব্যুৎপত্তি লাভ করেন

(¯`'·.¸¸.·'´¯) ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বাল্যকালে লেখাপড়ার কোন সুযোগ পাননি ।
কারণ তখন কুফায় এসে মারওয়ানী খিলাফতের যুগ । আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ান ছিলেন খিলাফতের প্রধান এবং যগের অভিশাপ, নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ছিলেন ইরাকের শাসনকর্তা ।
দেশের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল । ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ১৪/১৫ বছর বয়সে একদিন যখন বাজারে যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে তৎকালীন বিখ্যাত ইমাম হযরত শা'বী (রহঃ) তাঁকে দেখে জিজ্ঞাস করলেন, হে বালক, তুমি কি কোথাও লেখাপড়া শিখতে যাচ্ছ? উত্তরে তিনি অতি দুঃখিত স্বরে বললেন, "আমি কোথাও লেখাপড়া শিখি না ।"
ইমাম শা'বী (রহঃ) বললেন, "আমি যেন তোমার মধ্যে প্রতিভার চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি । ভাল আলেমের কাছে তোমার লেখাপড়া শিখা উচিত" ইমাম শা'বী (রহঃ) -এর উপদেশ ও অনুপ্রেরণায় ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ইমাম হাম্মাদ (রহঃ) ইমাম আতা ইবনে রবিয়া (রহঃ) ও ইমাম জাফর সাদিক (রহঃ) -এর মত তৎকালীন বিখ্যাত আলেমদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন । খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কুরআন, হাদিস, কিকাহ, ইলমে কালাম, আদব প্রভৃতি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন । জ্ঞান লাভের জন্যে তিনি মক্কা, মদীনা, বসরা এবং কুফার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত আলেমদের কাছে গিয়েছিলেন । বিভিন্ন স্থান হতে হাদিসের অমূল্য রত্ন সংগ্রহ করে স্থীয় জ্ঞান ভান্ডার পূর্ণ করেন । উল্লেখ্য যে, তিনি প্রায় চার সহস্রাধিক আলেমের কাছে শিক্ষা লাভ করেছিলেন ।

ন্যায় ও সত্যের আদর্শ থেকে বিন্দু মাত্র পদঙ্খন ঘটাতে পারেনি তিনি

الإمام أبو حنيفة সমাজের অধঃপতনের সময় আলোক-বর্তিকা নিয়ে যে সকল মনীষীরা পৃথিবীর বুকে আবিভুত হয়েছিলেন, পার্থিব লোভলালসা ও ক্ষমতার মোহ যাদেরকে ন্যায় ও সত্যের আদর্শ থেকে বিন্দু মাত্র পদঙ্খন ঘটাতে পারেনি; যাঁরা অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করেননি, ইসলাম ও মানুষের কল্যাণে সারাটা জীবন যাঁরা পরিশ্রম করে গিয়েছেন, সত্যকে আঁকড়ে থাকার কারণে যাঁরা জালেম সরকার কর্তৃক অত্যাচারিত, নিপীড়ীত, নির্যাতিত; এমনকি কারাগারে নির্মমভাবে প্রহারিত হয়েছেন তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) তাঁদের মধ্যে অন্যতম ।

Copyright © 2010 srestho.blogspot.com